HSC ICT Hand Note Chapter 02 (HSC ICT ২য় অধ্যায়ের হ্যান্ড নোট)
দ্বিতীয় অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু (Key Topics)
১. ডেটা ট্রান্সমিশন মোড (Data Transmission Mode)
প্রবাহের দিকের ওপর ভিত্তি করে এটি ৩ প্রকার:
সিমপ্লেক্স (Simplex): ডেটা শুধু এক দিকে যায়। (উদাহরণ: রেডিও, টিভি)
হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex): ডেটা উভয় দিকে যায়, তবে একসাথে নয়। (উদাহরণ: ওয়াকিটকি)
ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex): একই সময়ে উভয় দিকে ডেটা আদান-প্রদান করা যায়। (উদাহরণ: মোবাইল ফোন, টেলিফোন)
২. ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড (Data Transmission Method)
ডেটা কীভাবে বিট হিসেবে প্রবাহিত হবে:
অ্যাসিনক্রোনাস: ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হয়। স্টার্ট ও স্টপ বিট প্রয়োজন।
সিনক্রোনাস: ডেটা ব্লক বা প্যাকেট আকারে যায়। গতি অনেক বেশি।
আইসোক্রোনাস: এটি সিনক্রোনাস ও অ্যাসিনক্রোনাসের মিশ্রণ (রিয়েল টাইম ডেটা যেমন- ভিডিও কলিং)।
৩. ট্রান্সমিশন মিডিয়া (Transmission Media)
তার মাধ্যম: * কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবল: ডিশ লাইনে ব্যবহৃত হয়।
টুইস্টেড পেয়ার: ল্যান (LAN) কানেকশনে ব্যবহৃত হয়।
ফাইবার অপটিক: কাঁচের তন্তু, আলোর গতিতে ডেটা যায়। এটি সবচেয়ে দ্রুত এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফেয়ারেন্স মুক্ত।
তারবিহীন মাধ্যম: রেডিও ওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ (ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই, ওয়াইম্যাক্স) এবং ইনফ্রারেড।
৪. নেটওয়ার্ক টপোলজি (Network Topology)
নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলো একে অপরের সাথে কীভাবে যুক্ত থাকে:
বাস (Bus): একটি মূল লাইনের (Backbone) সাথে সব কম্পিউটার যুক্ত থাকে।
স্টার (Star): একটি কেন্দ্রীয় হাব (Hub) বা সুইচের সাথে সব যুক্ত থাকে। (সবচেয়ে জনপ্রিয়)
রিং (Ring): প্রতিটি কম্পিউটার চক্রাকারে দুই পাশের সাথে যুক্ত থাকে।
মেশ (Mesh): প্রতিটি কম্পিউটার প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে।
ট্রি (Tree): শাখা-প্রশাখা আকারে থাকে (স্টার টপোলজির সম্প্রসারিত রূপ)।
৫. ক্লাউড কম্পিউটিং (Cloud Computing)
ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম্পিউটিং সেবা (সার্ভার, স্টোরেজ, ডাটাবেজ) গ্রহণ করা। এর ৩টি বৈশিষ্ট্য: রিসোর্স স্কেলেবিলিটি, অন-ডিম্যান্ড সেলফ সার্ভিস এবং পে-অ্যাজ-ইউ-গো (যতটুকু ব্যবহার, ততটুকু খরচ)।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রশ্ন (Q&A)
ব্যান্ডউইথ কী? প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ ডেটা প্রবাহিত হয় (bps)।
মডেম (Modem) কী? এটি ডিজিটাল সংকেতকে অ্যানালগ (Modulation) এবং অ্যানালগ সংকেতকে ডিজিটালে (Demodulation) রূপান্তর করে।
ওয়াই-ফাই vs ওয়াইম্যাক্স: ওয়াই-ফাই (IEEE 802.11) সীমিত এলাকার জন্য, আর ওয়াইম্যাক্স (IEEE 802.16) অনেক বড় এলাকার (পুরো শহর) জন্য।
দ্বিতীয় অধ্যায় (কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং) থেকে পরীক্ষায় বারবার আসে এমন ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. ব্যান্ডউইথ (Bandwidth) কী? উত্তর: একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে) কোনো মাধ্যম দিয়ে যে পরিমাণ ডেটা স্থানান্তরিত হয়, তাকে ব্যান্ডউইথ বলে। এর একক হলো bps (bits per second)।
২. ফাইবার অপটিক ক্যাবল কী? উত্তর: এটি কাঁচ বা প্লাস্টিকের তৈরি এক ধরণের তন্তু, যা আলোক সিগন্যালের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ডেটা আদান-প্রদান করে। এটি পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন পদ্ধতিতে কাজ করে।
৩. মডেম (Modem) এর কাজ কী? উত্তর: মডেমের কাজ হলো ডিজিটাল সংকেতকে অ্যানালগ সংকেতে রূপান্তর করা (মডুলেশন) এবং অ্যানালগ সংকেতকে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করা (ডিমডুলেশন)।
৪. ব্লুটুথ (Bluetooth) কী? উত্তর: ব্লুটুথ হলো স্বল্প দূরত্বের (সাধারণত ১০-১০০ মিটার) মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য একটি তারবিহীন প্রযুক্তি। এর স্ট্যান্ডার্ড হলো IEEE 802.15।
৫. টপোলজি (Topology) বলতে কী বোঝায়? উত্তর: একটি নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলো একে অপরের সাথে ভৌগোলিকভাবে যেভাবে সংযুক্ত থাকে, সেই সংযোগ পদ্ধতি বা নকশাকেই টপোলজি বলে।
৬. ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) এর পূর্ণরূপ কী? উত্তর: ওয়াই-ফাই এর পূর্ণরূপ হলো Wireless Fidelity। এটি IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ডের একটি তারবিহীন লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি।
৭. ক্লাউড কম্পিউটিং কী? উত্তর: ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার রিসোর্স (যেমন- স্টোরেজ, সার্ভার) নিজের কম্পিউটারে ইনস্টল না করে দূরবর্তী কোনো সার্ভার থেকে ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করাকে ক্লাউড কম্পিউটিং বলে।
৮. ফুল-ডুপ্লেক্স মোড কী? উত্তর: যে ডেটা ট্রান্সমিশন মোডে একই সময়ে উভয় দিকে ডেটা আদান-প্রদান করা যায়, তাকে ফুল-ডুপ্লেক্স মোড বলে। যেমন: মোবাইল ফোন বা টেলিফোন।
৯. আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) কী? উত্তর: ইন্টারনেটে যুক্ত প্রতিটি কম্পিউটার বা ডিভাইসের একটি নির্দিষ্ট এবং অনন্য (Unique) ঠিকানা থাকে, যাকে আইপি অ্যাড্রেস বলা হয়।
১০. রাউটার (Router) এর কাজ কী? উত্তর: রাউটার একটি বুদ্ধিমান নেটওয়ার্ক ডিভাইস যা একাধিক নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে এবং ডেটা প্যাকেটকে সবচেয়ে ছোট ও দ্রুততম পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

0 Comments
Post a Comment