সুইচ ও হাব কি? Top 5 Differences between Switch & Hub

সুইচ ও হাব কি? এদের মধ্যে ৫টি পার্থক্য

কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে জানতে গেলে সুইচ ও হাব দুটি গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক ডিভাইসের নাম সামনে আসে। একটি নেটওয়ার্কে একাধিক কম্পিউটার, প্রিন্টার, সার্ভার বা অন্যান্য ডিভাইসকে সংযুক্ত করার জন্য এসব ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। তবে কাজের ধরন ও ডেটা আদান-প্রদানের পদ্ধতির ক্ষেত্রে Switch এবং Hub-এর মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

আরো পড়ুন >> HSC ICT Hand Note Chapter 02 (HSC ICT ২য় অধ্যায়ের হ্যান্ড নোট) 

উপরের লিংকটিতে আপনি এইচএসিস আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়) এর নোটসহ বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন। 

সুইচ ও হাব কি? Top 5 Differences between Switch & Hub

অনেক শিক্ষার্থী ও নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারী মনে করেন সুইচ ও হাব একই ধরনের ডিভাইস। দেখতে প্রায় একই রকম হলেও ডেটা কীভাবে গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং নির্দিষ্ট ডিভাইসে পাঠানো হয়এই বিষয়গুলোতে তাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তাই আইসিটি বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং শেখার ক্ষেত্রে Switch vs Hub বিষয়টি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুইচ কী? Switch-এর সংজ্ঞা

সুইচ (Switch) হলো একটি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, যা একই নেটওয়ার্কের একাধিক ডিভাইসকে সংযুক্ত করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডিভাইসের কাছে ডেটা পাঠায়। সুইচ সাধারণত OSI Model-এর Data Link Layer-এ কাজ করে এবং MAC Address ব্যবহার করে ডেটা কোন ডিভাইসে পাঠাতে হবে তা নির্ধারণ করতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে একটি কম্পিউটার ল্যাবে ১০টি কম্পিউটার একটি সুইচের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলে, একটি কম্পিউটার থেকে অন্য একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটারে ডেটা পাঠানোর সময় সুইচ প্রয়োজনীয় পোর্টে ডেটা পাঠাতে পারে। ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নেটওয়ার্কের সব ডিভাইসে একই ডেটা পাঠানোর প্রয়োজন হয় না।

হাব কী? Hub-এর সংজ্ঞা

হাব (Hub) হলো একটি সাধারণ নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, যার মাধ্যমে একই নেটওয়ার্কের একাধিক কম্পিউটার বা ডিভাইসকে সংযুক্ত করা যায়। কোনো একটি পোর্ট থেকে ডেটা গ্রহণ করলে হাব সাধারণত সেই ডেটা অন্য সংযুক্ত পোর্টগুলোতে পাঠিয়ে দেয়। অর্থাৎ কোন ডিভাইসের জন্য ডেটাটি নির্দিষ্টভাবে পাঠানো হবে, হাব সাধারণভাবে সে সিদ্ধান্ত নেয় না।

হাব OSI Model-এর Physical Layer বা Layer 1-এ কাজ করে। এটি ডেটার গন্তব্য বিশ্লেষণ না করে বৈদ্যুতিক বা নেটওয়ার্ক সিগন্যালকে অন্যান্য সংযুক্ত পোর্টে পুনরায় পাঠায়। এ কারণে একই নেটওয়ার্কে বেশি ডিভাইস যুক্ত হলে হাবের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ট্রাফিক তৈরি হতে পারে।

সুইচ ও হাবের কাজের বর্ণনা

Switch এবং Hub উভয়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নেটওয়ার্কের একাধিক ডিভাইসকে সংযুক্ত করা। তবে সুইচ তুলনামূলকভাবে বেশি বুদ্ধিমানভাবে ডেটা পরিচালনা করে। সুইচ সংযুক্ত ডিভাইসগুলোর MAC Address সম্পর্কে তথ্য ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পোর্টে ডেটা ফরওয়ার্ড করতে পারে।

অন্যদিকে Hub কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নির্বাচন না করে একটি পোর্টে পাওয়া সিগন্যাল অন্য পোর্টগুলোতে ছড়িয়ে দেয়। ফলে হাবের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ডেটা ট্রাফিক এবং Collision হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আধুনিক নেটওয়ার্কে তাই সাধারণ ব্যবহারে হাবের পরিবর্তে সুইচ বেশি ব্যবহৃত হয়।

সুইচ ও হাবের মধ্যে ৫টি পার্থক্য

বিষয় সুইচ (Switch) হাব (Hub)
১. কাজের স্তর সাধারণত OSI Model-এর Data Link Layer বা Layer 2-এ কাজ করে। OSI Model-এর Physical Layer বা Layer 1-এ কাজ করে।
২. ডেটা পাঠানোর পদ্ধতি নির্দিষ্ট গন্তব্যের পোর্টে ডেটা পাঠাতে পারে। একটি পোর্ট থেকে পাওয়া ডেটা অন্যান্য পোর্টে পাঠিয়ে দেয়।
৩. MAC Address MAC Address ব্যবহার করে ডেটার গন্তব্য নির্ধারণ করতে পারে। MAC Address বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট গন্তব্য নির্বাচন করে না।
৪. Collision Full-duplex ব্যবহারের ক্ষেত্রে Collision-এর সমস্যা অনেক কম থাকে। Collision হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।
৫. কার্যকারিতা দ্রুত ও দক্ষভাবে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে এবং আধুনিক LAN-এ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তুলনামূলকভাবে কম দক্ষ এবং আধুনিক নেটওয়ার্কে এর ব্যবহার সীমিত।

সুইচ ও হাবের মধ্যে মূল পার্থক্য সহজভাবে

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, Hub হলো এমন একটি ডিভাইস যা একটি পোর্ট থেকে ডেটা পেলে তা অন্য সংযুক্ত পোর্টগুলোতে ছড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে Switch ডেটার গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় পোর্টে ডেটা পাঠাতে পারে। এই কারণে একই সংখ্যক ডিভাইসের নেটওয়ার্কে সুইচ সাধারণত বেশি কার্যকর নেটওয়ার্ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে পারে।

Switch and Hub Explained: কি, কেন এবং ৫টি প্রধান পার্থক্য

ধরুন, একটি শ্রেণিকক্ষে ৫টি কম্পিউটার একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত রয়েছে। কম্পিউটার A থেকে কম্পিউটার B-তে ডেটা পাঠানো হলো। হাব ব্যবহার করলে সেই ডেটা অন্য সংযুক্ত কম্পিউটারগুলোর কাছেও পৌঁছাতে পারে। কিন্তু সুইচ MAC Address-এর তথ্য ব্যবহার করে ডেটা নির্দিষ্ট পোর্টে পাঠাতে পারে। তাই নেটওয়ার্কের অপ্রয়োজনীয় ট্রাফিক কমানোর ক্ষেত্রে সুইচ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

কেন বর্তমানে সুইচ বেশি ব্যবহৃত হয়?

আধুনিক অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য LAN নেটওয়ার্কে সাধারণত সুইচ বেশি দেখা যায়। কারণ এটি নির্দিষ্ট ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানকে আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করতে পারে। এছাড়া একাধিক ডিভাইস সংযুক্ত থাকা অবস্থায় নেটওয়ার্কের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সুইচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হাবের তুলনায় সুইচের ডেটা ফরওয়ার্ডিং পদ্ধতি বেশি কার্যকর হওয়ায় বর্তমান নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থায় এর ব্যবহার বেশি।

সুইচ ও হাবের পার্থক্য

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, সুইচ ও হাব উভয়ই নেটওয়ার্কের বিভিন্ন ডিভাইসকে সংযুক্ত করার কাজে ব্যবহৃত হলেও তাদের ডেটা পরিচালনার পদ্ধতি এক নয়। হাব সাধারণভাবে ডেটা সব সংযুক্ত পোর্টে ছড়িয়ে দেয়, আর সুইচ প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট গন্তব্যে ডেটা পাঠাতে পারে। তাই নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি করতে Switch এবং Hub-এর পার্থক্য জানা একজন শিক্ষার্থী বা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন ও উত্তর FAQ

১. সুইচ কী?

সুইচ হলো একটি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, যা একাধিক ডিভাইসকে সংযুক্ত করে এবং MAC Address-এর তথ্য ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পোর্টে ডেটা পাঠাতে পারে।

২. হাব কী?

হাব হলো একটি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, যা একাধিক ডিভাইসকে সংযুক্ত করে এবং একটি পোর্ট থেকে পাওয়া সিগন্যাল অন্যান্য সংযুক্ত পোর্টে পাঠায়।

৩. সুইচ ও হাবের প্রধান পার্থক্য কী?

প্রধান পার্থক্য হলো, সুইচ ডেটার গন্তব্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট পোর্টে ডেটা পাঠাতে পারে, কিন্তু হাব সাধারণভাবে ডেটা অন্যান্য সংযুক্ত পোর্টে ছড়িয়ে দেয়।

৪. Switch কোন Layer-এ কাজ করে?

সাধারণ নেটওয়ার্ক সুইচ OSI Model-এর Data Link Layer বা Layer 2-এ কাজ করে।

৫. Hub কোন Layer-এ কাজ করে?

Hub OSI Model-এর Physical Layer বা Layer 1-এ কাজ করে।

৬. বর্তমানে Switch নাকি Hub বেশি ব্যবহৃত হয়?

আধুনিক LAN নেটওয়ার্কে সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে Switch বেশি প্রচলিত, কারণ এটি ডেটা ফরওয়ার্ডিং আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করতে পারে।